ত্রিশঙ্কু সরকারের আভাসে মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে মমতাই

এপ্রিল ৩০, ২০২১ বিকাল ০৭:৫৮ IST

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা - গত প্রায় দেড় মাস ধরে ৮ দফায় চলা নির্বাচন সম্পূর্ণ হতেও গোটা ভারতের নজর এই মুহূর্তে বাংলায়। কে গড়বে বাংলায় সরকার ,আর কার দখলে যাবে বাংলার ক্ষমতা। এই কোটি টাকার প্রশ্নের মধ্যেই প্রতি নির্বাচনের মতোই এই নির্বাচনের ফলপ্রকাশের আগে গোটা বঙ্গবাসীর নজর 'এক্সিট পোলে'র দিকে। বিভিন্ন সংস্থা থেকে শুরু করে গণমাধ্যম ,তারা তাদের একাধিক যুক্তি-তর্ক-বিচার-বিশ্লেষণের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করা শুরু করেছে 'বুথ ফেরত সমীক্ষা'।

অমৃতবাজার সেই প্রত্যেকটি সমীক্ষা সহ 'নিজেদের পাঠক-পাঠিকা' সহ বিভিন্ন পথচলতি মানুষের  মধ্যে একাধিক  প্রশ্নের সমন্বয়ে সমীক্ষা চালিয়েছে।

সর্বপ্রথম নজরদিন বিভিন্ন সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কোন দল কত আসনে এগোতে পারে বা দল সরকার গঠন করতে পারে।

একনজরে দেখুন 'এক্স ফ্যাক্টর এক্সিট পোল'

'Axis My India'-এর সমীক্ষা অনুযায়ী এক্সিট পোলের রেজাল্ট -

• তৃণমূল ১৪৩ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• বিজেপি ১৪৭ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• সংযুক্ত মোর্চা ২ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

'NDTV' চ্যানেলের সমীক্ষা অনুযায়ী এক্সিট পোলের রেজাল্ট -

• তৃণমূল ১৪৯ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• বিজেপি ১৩১ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• সংযুক্ত মোর্চা ১৫ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

'INDIA TODAY' চ্যানেলের সমীক্ষা অনুযায়ী এক্সিট পোলের রেজাল্ট -

• তৃণমূল ১৩০ থেকে ১৫৬ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• বিজেপি ১৩৪ থেকে ১৬০ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• সংযুক্ত মোর্চা ০ থেকে ২ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

'ABP' চ্যানেলের সমীক্ষা অনুযায়ী এক্সিট পোলের রেজাল্ট -

• তৃণমূল ১৫২ থেকে ১৬৪ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• বিজেপি ১০৯ থেকে ১২১ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• সংযুক্ত মোর্চা ১৪ থেকে ২৫ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

'Zee News' চ্যানেলের সমীক্ষা অনুযায়ী এক্সিট পোলের রেজাল্ট -

• তৃণমূল ১৫২ থেকে ১৬৪ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• বিজেপি ১০৯ থেকে ১২১ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• সংযুক্ত মোর্চা ১৫ থেকে ২৫ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

'Times Now CVoter' চ্যানেলের সমীক্ষা অনুযায়ী এক্সিট পোলের রেজাল্ট -

• তৃণমূল ১৫৮ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• বিজেপি ১১৫ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• সংযুক্ত মোর্চা ১৯ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

'CNX Republic' চ্যানেলের সমীক্ষা অনুযায়ী এক্সিট পোলের রেজাল্ট -

• তৃণমূল ১৩৩ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• বিজেপি ১৪৩ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• সংযুক্ত মোর্চা ১৬ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

'P-MARQ'-এর সমীক্ষা অনুযায়ী এক্সিট পোলের রেজাল্ট -

• তৃণমূল ১৫৮ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• বিজেপি ১২০ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• সংযুক্ত মোর্চা ১৪ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

'ETG Research'-এর সমীক্ষা অনুযায়ী এক্সিট পোলের রেজাল্ট -

• তৃণমূল ১৬৯ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• বিজেপি ১১০ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• সংযুক্ত মোর্চা ১৩ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

'Jan Ki Baat' চ্যানেলের সমীক্ষা অনুযায়ী এক্সিট পোলের রেজাল্ট -

• তৃণমূল ১১২ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• বিজেপি ১৭৪ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• সংযুক্ত মোর্চা ৬ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

'IPSOS'-এর সমীক্ষা অনুযায়ী এক্সিট পোলের রেজাল্ট -

• তৃণমূল ১৫৮ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• বিজেপি ১১৫ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• সংযুক্ত মোর্চা ১৯ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

'Pollstrat'-এর সমীক্ষা অনুযায়ী এক্সিট পোলের রেজাল্ট -

• তৃণমূল ১৪৭ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• বিজেপি ১৩০ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• সংযুক্ত মোর্চা ১৫ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

'India TV' চ্যানেলের সমীক্ষা অনুযায়ী এক্সিট পোলের রেজাল্ট -

• তৃণমূল ৮৮ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• বিজেপি ১৯২ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• সংযুক্ত মোর্চা ১২ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

উপরের বিভিন্ন সংস্থা সহ একাধিক সংবাদ মাধ্যমের সমীক্ষার ফল ও 'অমৃতবাজারে'র পাঠক-পাঠিকা এবং পথ চলতি মানুষ ছাড়াও একাধিক প্রশ্নের সমন্বয়ে যে সমীক্ষা করা হয়ে ছিল,তাতে অনেকটাই স্পষ্ট 'আগামী ২রা মে কোন দল শেষ হাসি' হাসতে চলেছে।

• তৃণমূল ১৩৫ থেকে ১৪০ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• বিজেপি ১০০ থেকে ১১০ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• সংযুক্ত মোর্চা ৪০ থেকে ৪৫ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

• অন্যান্য দল ২ থেকে ৭ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এক্সিট পোলের রিপোর্ট ছাড়াও জনসাধারণের কোন দলের প্রতি আস্থা বেশি, মসনদে কাকে দেখতে চায় জনতা, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে তাদের দাবি কি,এমন একাধিক প্রশ্নের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে প্রায় কোনো দলই 'বুক ঠুকে সরকার গঠনের দাবি করতে পারছে না',অর্থাৎ বলা চলে ফলাফল অনেকটাই 'ত্রিশঙ্কু' হওয়ার দৌড়ে রয়েছে।

একাদিক ভোটার তাদের মতামত জানালেও প্রায় একটা 'বড়ো' সংখ্যার 'ভোটার' আছে,যারা কার্যত 'নিঃশ্চুপ মতদাতা'। অর্থাৎ যারা গোটা বিষয়টি সমর্থন ও করছেন না আবার অসমর্থন ও করছেন না।এই 'নিঃশ্চুপ' ভোটাররাই এবারের নির্বাচনের 'ক্লাইম্যাক্স ভোটার' হতে পারে।কিন্তু এতটা সত্ত্বেও 'অমৃতবাজারে'র সমীক্ষা অনুযায়ী -

• বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন মমতা ব্যানার্জিই। দিলীপ ঘোষ বা সুজন চক্রবর্তীকে দলীয় ভাবে অনেকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাইছেন না। জনসাধারণের অভিমতের নিরিখে পিছিয়ে নেই সংযুক্ত মোর্চাও।

• ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতেও জনসাধারণ কিন্তু গুরুত্ব দিয়েছেন কর্মক্ষেত্রের ওপর। রাজ্য সরকারের কাছে তাদের মূল দাবি বেকারত্ব দূরীকরণ।

প্রথমত, রাজ্যজুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া বইলেও মুখ্যমন্ত্রী পদে তৃণমূল ছাড়া অন্য কোন দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি বিধানসভা নির্বাচন জিতলে কে বসবে মসনদে। সেই বিষয়ে বিভ্রান্ত জনসাধারণ। রাজ্যের একাংশ বিজেপি সরকার গঠন করতে চাইলেও দিলীপ ঘোষকে মুখ্যমন্ত্রী পদে দেখতে চান না, আবার অন্যদিকে পলিটব্যুরো থেকেও নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

দ্বিতীয়ত, দেশজুড়ে ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা। করোনা আবহে অর্থনৈতিক অবস্থা তলানিতে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতেও কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

তৃতীয়ত, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১০ বছর ধরে রাজত্ব করলেও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে আশানুরূপ কাজ করতে পারেননি। অন্যদিকে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কর্মসংস্থানের অভাব, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর অভাব এবং একাধিক বির্তকিত নীতি-পদক্ষেপ হতাশ করেছে জনসাধারণকে। যার জেরে 'নিঃশ্চুপ ভোটার' সহ বহু সংখ্যক মানুষ নতুন আশা নিয়ে হয়তো ঝুঁকেছে সংযুক্ত মোর্চার প্রতি। অর্থাৎ এক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, তারা কি নতুন কোনো শক্তি বা অন্য কোনো বিকল্প চাইছেন?

চতুর্থত, 'এক্স ফ্যাক্টর',অর্থাৎ দুই তথাকথিত শক্তিধর দল তৃনমূল ও বিজেপির লড়াইয়ের মাঝ দিয়েই শেষ হাসি হাসতে পারে 'সংযুক্ত মোর্চা' প্রার্থীরা।হয়তো যুক্তি ও বিচারে সেই সব কেন্দ্রে কোথাও এগিয়ে বিজেপি , কোথাও বা তৃনমূল।কিন্তু বলাইবাহুল্য দুই শক্তির লড়াইয়ে 'নিঃশ্চুপ ভোটার'দের এক বিপুল সমর্থন 'মোর্চা'প্রার্থীরা পেতে পারে।এই 'এক্স ফ্যাক্টর ভোটারদের' দৌলতে বেশ কিছু কেন্দ্রে বড়োসড়ো অঘটন যদিও বা ঘটে ,তা মোটেও অনভিপ্রেত হবে না।

সুতরাং গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে যুক্তি-তর্ক-বিচার-বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আগামী ২রা মে 'বঙ্গে ত্রিশঙ্কু সরকার' গঠন হওয়ার বিপুল সম্ভবনা তৈরী হচ্ছে। তাই ফলাফল ঘোষণা হওয়ার আগে কার্যত কোনো দলই 'বুকঠুকে' সরকার গঠনের দাবি জানাতে পারছে না। কারণ সরকার গঠনের জন্য যে পরিমান 'সংখ্যাগরিষ্ঠতা' প্রয়োজন,তা সব দলই পেতে ব্যার্থ। তাই আবার নির্বাচনের পর সরকার গঠনে 'সংযুক্ত মোর্চা' সবথেকে বড়ো 'ফ্যাক্টর' হতে পারে।

ভিডিয়ো